‘এই জয়টা ব্যক্তিগত মনে হচ্ছে…’ পানিহাটিতে অভয়ার মায়ের জয়ে খুশি মিমি চক্রবর্তী! একদা মমতার বাজি মিমিই প্রকাশ্যে বিজেপির প্রশংসায়

টলিপাড়ার পরিচিত মুখ মিমি চক্রবর্তী আবারও খবরের শিরোনামে। একসময় অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ে সাংসদও হয়েছিলেন মিমি। যদিও গত লোকসভা নির্বাচনের পর তিনি নিজেকে রাজনীতি থেকে অনেকটাই সরিয়ে নেন। এরপর তাঁকে সক্রিয় রাজনৈতিক মঞ্চে খুব একটা দেখা যায়নি। তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি ফের আলোচনায় এলেন। কারণ পানিহাটি কেন্দ্রের ফলাফল সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমে বিশেষ বার্তা দেন অভিনেত্রী। সেই পোস্ট ঘিরেই এখন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে আলোচনা চলছে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্র ছিল অন্যতম চর্চিত আসন। কারণ এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছিলেন আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ। অন্যদিকে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন তীর্থঙ্কর ঘোষ। ভোটের লড়াইয়ে শুরু থেকেই এই কেন্দ্র নিয়ে আলাদা আগ্রহ ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত ফল প্রকাশের দিনে বড় ব্যবধানে জয় পান রত্না দেবনাথ। তাঁর জয়কে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে এই ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রত্না দেবনাথের জয়ের পর নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তাঁর ছবি পোস্ট করেন মিমি চক্রবর্তী। সেখানে তিনি লেখেন, “২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ, পানিহাটি আসনে জয়ী। এই জয়টা ব্যক্তিগত মনে হচ্ছে। কোনও জয়ই আপনার ক্ষতি পূরণ করতে পারবে না।” মিমির এই বার্তা দ্রুতই নজর কেড়ে নেয় নেটমাধ্যমে। অনেকে তাঁর এই মন্তব্যকে মানবিক বলেও ব্যাখ্যা করেছেন। আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন। সব মিলিয়ে অভিনেত্রীর এই পোস্ট নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যজুড়ে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন বহু মানুষ। রাত দখলের কর্মসূচি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিবাদ মিছিলে সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সেই সময় রত্না দেবনাথও মেয়ের বিচারের দাবিতে সরব হয়েছিলেন। পরে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। তখন অনেকেই তাঁর রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে ভোটের ফল অন্য বার্তা দিল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

আরও পড়ুন: ২১-এ বিজেপি হারতেই মেরুকরণের রাজনীতির দোহাই দিয়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়! ২৬-এ মেলেনি টিকিট, বিজেপির বিপুল জয়ের পর উঠছে প্রশ্ন, এবার কোথায় যাবেন তিনি?

পানিহাটির মানুষের রায়ে স্পষ্ট, সহানুভূতি ও প্রতিবাদের সুর মিলিয়ে রত্না দেবনাথকে সমর্থন জানিয়েছেন অনেক ভোটার। তৃণমূল প্রার্থীর পরাজয় এবং বিজেপি প্রার্থীর এই জয় তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, বিধানসভায় গিয়ে তিনি নিজের মেয়ের বিচার এবং সাধারণ মানুষের দাবি কতটা জোরালোভাবে তুলতে পারেন। অন্যদিকে মিমি চক্রবর্তীর শুভেচ্ছাবার্তা এই জয়কে আরও আলোচনায় এনে দিয়েছে। রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও তাঁর মন্তব্য যে এখনও গুরুত্ব পায়, তা আরও একবার প্রমাণ হল। আগামী দিনে এই কেন্দ্র নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

You cannot copy content of this page